
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা এলাকায় এক ইমামকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও আলোচনা। অভিযোগ উঠেছে, গণভোটের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার জেরে টেংরাটিলা মারকাজ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা বদিউজ্জামান মুরাদকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, নিজ গ্রাম আলীপুরে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী সভায় তিনি গণভোটের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। এরপর টেংরাটিলা ও আলীপুর কেন্দ্রেও দাড়িপাল্লা প্রতীকের জয়লাভের পর কিছু স্থানীয় বিএনপি নেতার পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক মত প্রকাশের কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে কটূক্তি, অপপ্রচার ও আপত্তিকর মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এমনকি তার পেছনে নামাজ আদায়কারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে—যা এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাকে ইমামের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তার সমর্থকদের দাবি। অন্যদিকে বিএনপির কিছু নেতা অভিযোগ করেছেন, ইমাম সাহেব মসজিদের ভেতরে নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়েছেন এবং নির্বাচনের সময় অনিয়মে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীর একটি অংশ।
ইমাম বদিউজ্জামান মুরাদ বলেন,
“আমি চাকরি করবো কি করবো না সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার প্রমাণ আমি চেয়েছি। তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহলের অভিমত, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা বিভাজনমূলক আচরণ সমাজে অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।