
আরিফ হোসেন রুদ্র ( রায়পুর লক্ষ্মীপুর)
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পৌর অনুমোদিত প্লান অনুযায়ী নির্মাণ কাজ না করে খামখেয়ালী ও নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন ভবনের মালিক, আমেরিকা প্রবাসী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মঞ্জুরুল আলম ও অবসর প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মদ।
এমন অভিযোগের আলোকে বিষয়টি অবগত হয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল আলম এক অনুষ্ঠানে মেয়রকে সামনে পেয়ে চাঁদাবাজ, রাজাকার সন্তান বলে কটাক্ষ করেন। মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট তাঁর বক্তৃতায় অভিযোগ খন্ডনের চেষ্টা করলে বিশৃংখলা এড়াতে উভয় পক্ষকে থামিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন।
উল্লেখিত ঘটনাটি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কটাক্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পৌরসভা থেকে অনুমোদিত প্লানে রয়েছে ভবনের চার পাশে ৬ ফিট করে জায়গা ছেড়ে দিয়ে নির্মাণ কাজ করবে ও ভবনের নিচে গাড়ী পার্কিং থাকবে। অথচ তা করেনি ভবন মালিকপক্ষ। শুধু তা-ই নয়, সড়কের পাশে প্রবেশ পথে সরকারি জায়গায় সিঁড়ি নির্মাণ করে ও গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি পৌরসভা অবগতি হলে গত ২৯ ফেব্রুয়ার নোটিশ দেয় এবং নিয়ম না মানায় ৪ মার্চ বাড়তি ওয়াল ভেঙে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চড়াও হন মুক্তিযোদ্ধা।
এদিকে, ডা. মঞ্জুল আলম অভিযোগ করে বলেন, পৌর মেয়রকে চাঁদা না দেয়ায় এমনটি ঘটিয়েছেন মেয়র, তাঁর পরিবারে কেউ আওয়ামী লীগ করেননি কখনও। অথচ আওয়ামীলীগের টিকেটে পৌরসভার মেয়র হয়ে তিনি এখন মুক্তিযোদ্ধার কাছে চাঁদা চান।
মঞ্জুরুল আলম দু:খ করে বলেন, আমি আমেরিকা থেকে টাকা ইনকাম করে এ দেশে এনে খরচ করছি, দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধ করেছি ওই মেয়রকে চাঁদা দিতে? আমি দেশে থাকলে আওয়ামী বিদ্বেস্বী পরিবারের ওই মেয়র আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেতেন না। তিনি এ ব্যাপারে জুডিুশয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তদন্ত করতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেছেন, মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে নিজের অনিয়মকে ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। মার্কেট নির্মাণে কোনও নিয়ম মানা হয়নি। আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধার কোপানলে পড়েছি।
মেয়র আরও বলেন, ওই মুক্তিযোদ্ধা তার সকল অনিয়ম ঢাকতে ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করে। সঠিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়েও আমি বাধার সম্মুখীন হয়েছি। চাঁদার বিষয় প্রমাণিত হলে শাস্তি ভোগ করব এবং যদি প্রমাণিত না হয় তাহলে এই মুক্তিযোদ্ধাকেই শাস্তির আওতায় আনা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেয়র রুবেল ভাট বলেছেন, আমার অপরাধ হচ্ছে, শেখ হাসিনার দেয়া নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়ের নির্বাচিত হয়েছি, আমি চাঁদাবাজ মুক্ত পৌরসভা গড়ার চেষ্টা করি, পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভা হিসেবে স্বপ্ন দেখি, পৌরসভা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি, সব ধরনের অন্যায় ও অনিময়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। তাই আমি এমন কিছু গুটি কয়েক লোকের কাছে খারাপ এবং অপরাধী।
পৌর কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মঞ্জুরুল আলম বলেন, নিয়ম মেনেই একতা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ হয়েছে। বরং আমার ব্যক্তিগত মালিকানা জমি ছেড়ে দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ভবন। পৌরসভা লোকজনদেরকে লাঞ্ছিত কিংবা হামলার ঘটনা তিনি অস্বীকার করেন।