
বেরোবি প্রতিনিধি :
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী ও হল সংসদ (ব্রাকসু) ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিঃ নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।এতে শিক্ষার্থীরা নতুন দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৫) মিডিয়া চত্বরে বিকাল ৩ টায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেছেন,
আজ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি শিক্ষার্থীদের প্রাণের চাওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য।
কার্যকর ও নির্বাচিত ছাত্রসংসদ। এটি আমাদের অধিকার শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর ও প্রতিনিধিতের প্লাটফর্ম। আপনারা সকলেই অবগত আছেন, জুলাই বিপ্লবের পরে বেরোবি শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ছিল একটি এই লক্ষ্যে আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মিছিল
শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করেছি করেছি, প্রশাসনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও আলোচনা করেছি এবং সর্বশেষ বাধ্য হয়ে অনশনে বসেছি। এই দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে ইন্টেরিম সরকারের উপদেষ্টারা বসে আমাদের ছাত্রসংসদ নির্বাচনের নীতিমালা প্রস্তুত করেন। এটি ছাত্রসংসদ আইন হিসাবে সংযুক্তও করে দেন।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আইন সংযুক্তির পরও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রাকসু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। কিজ একের পর এক কমিশনের পদত্যাগ, নতুন কমিশন গঠন ও পুণরায় পদত্যাগের মাধ্যমে ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে ব্রাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই আমরা মনে করি। এই পর্যন্ত চার, চারবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রত্যেকবারেই কোন না কোন অজুহাতে
নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
কখনো ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার অযুহাতে, কখনো প্রশাসনিক জটিলতা, আবার কখনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তথাকথিত অযুহাতে পদত্যাগের নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে
ছাত্রসংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে এহেন হীন প্রহসনের প্রতীকার কি হবে এবার?
এখন ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিঃ নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
আমাদের শুরু থেকেই শঙ্কা ছিল প্রশাসন এবং কমিশনার ধাপে ধাপে সময়ক্ষেপণ করে শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের পরে নিয়ে যাবেন। এজন্য আমরা নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চেয়েছিলাম কিন্তু প্রশাসন ডিসেম্বর, পরে আবার জানুয়ারী এবং তাদের প্রি- প্লান ফ্রেব্রুয়ারীতে তারিখ নির্ধারনের প্রস্তুতি নিয়েছে। অযথা ইচ্ছাকৃত সময়ক্ষেপণ করে শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী ব্রাকসু আজ অনিশ্চয়তার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, শিক্ষা, গবেষনা, নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত সুন্দর একটি ক্যাম্পাস বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে ব্রাকসু যাত্রা শুরু করবে এটিই সবার প্রত্যাশা। কিন্তু বারবার শিক্ষার্থীদের আবেগ, অনুভুতি ও ইমোশন নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি জকসু, শাকসু যদি সম্ভব হয় তাহলে ব্রাকসু কেন নয়? এখন অল্প দিনে সব কাজ করা সম্ভব নয় বলছেন, তাহলে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ১১ ই জানুয়ারী কেন সময়ক্ষেপন করা হলো? এর দায়ভার আপনাদেরকেই নিতে হবে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আর কোন নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে ব্রাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে লাগাতার আন্দোলনে নেমে যাবে। আমরা আশা করব, কোন যদি, কিন্তু ছাড়া এবার ব্রাকসু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
এই দাবীতে প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমাদের পাশে থাকার অনুরোধ করছি।