দুই বছরেও আলোর মুখ দেখেনি অনুমোদন – dainikprothombarta    
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাভার আশুলিয়া সেনা মার্কেট থেকে সরকারি আটা ও চাল জব্দ মান্দায় আত্রাই নদীর পাড়ে মোবাইল কোর্ট; দুই চালককে জরিমানা। দোয়ারাবাজারে সুনামগঞ্জের ডিসির বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজশাহীতে মঞ্চ প্রস্তুত রাজশাহী-৫ পুঠিয়া দুর্গাপুর বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা বিভিন্ন ইউনিয়নে  নওগাঁর মান্দায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত। ঘাটাইলে বর্ণিল আয়োজনে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের সমন গায়েব করে গ্রেপ্তারের অভিযোগ মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে পরিচিত মাগুরা মহম্মদপুর পলাশবাড়ী ইউনিয়ন এর ঔতিহ্য ও কৃতি সন্তান, এ আর সাইফুল ইসলাম । সংস্কারের নামে বছরের পর বছর খোঁড়া রাস্তা ধুনটে ঠিকাদার লাপাত্তা, মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

দুই বছরেও আলোর মুখ দেখেনি অনুমোদন

রিয়াদ হোসেন
  • Update Time : শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৫১ Time View

ফরিদপুর ভাঙ্গা প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থাকলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব। প্রায় দুই বছর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনো অনুমোদন না আসায় চরম সংকটে পড়েছে জেলার অন্যতম প্রধান এই সরকারি হাসপাতাল। এর ফলে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলার লাখো মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,

 

“জেলার জনসংখ্যা ও রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব প্রায় দুই বছর আগে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। সীমিত শয্যা ও জনবল দিয়েই বাড়তি রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে।”

 

শয্যার চেয়ে রোগী বেশি, মেঝেতেই চিকিৎসা

 

বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে কয়েকশ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝে কিংবা বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শয্যা না পাওয়ায় অনেক রোগী বাধ্য হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

গরিব রোগীদের জন্য চিকিৎসা হয়ে উঠছে দুঃস্বপ্ন

 

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শয্যা সংকটের কারণে অনেক সময় রোগী ভর্তি করানো সম্ভব হয় না। গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক বা ঢাকায় পাঠাতে হয়, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

 

এক রোগীর স্বজন বলেন,

 

“সরকারি হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিতে হয়েছে। কয়েক দিনে সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। গরিব মানুষের চিকিৎসা পাওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।”

 

আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় ভূমিকা ফরিদপুরের

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফরিদপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর হওয়ায় এখানকার জেনারেল হাসপাতালের ওপর শুধু জেলার মানুষই নয়, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার রোগীরাও নির্ভরশীল। তাই হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।

 

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান আরও বলেন,

 

“আমরা নিয়মিত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। দ্রুত অনুমোদন পেলে হাসপাতালের সেবার মান অনেকটাই উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।”

 

দ্রুত অনুমোদনের দাবি ফরিদপুরবাসীর

 

ফরিদপুরবাসীর জোর দাবি, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে অবিলম্বে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হোক। এতে জেলার মানুষ অন্তত ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

© All rights reserved © Doinik Prothom Barta
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102