
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দেশের সড়ক পরিবহন খাতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ অফিস। প্রায় প্রতিটি বিআরটিএ অফিসে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঘটার অভিযোগ এটা নতুন নয়। আর এমন বিতর্ক অভিযোগ কমিয়ে সেবা মানুষের দৌরগড়ায় পৌঁছে দিতে রাত দিন কাজ করছেন মানবিক কর্মকর্তা (ইঞ্জি:) তানভীর আহমেদ।
সদ্য যোগদানকৃত ঝিনাইদহ বিআরটিএ অফিসে সেবা নিতে আসা একাধিক সেবা গ্রহীতারা তার প্রশংসায় এখন পঞ্চমুখ। জানা যায় তিনি খুলনা বিআরটিএ অফিসে থাকাকালীন তিনি যথেষ্ট সততা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে অত্যান্ত সুনামের সাথে গত ০৮ই জানুয়ারী বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেলে যোগদান করেন। তার সৎ কর্মের ফলে চেয়ারে বসতে না বসতেই তিনি এতো অল্প সময়ের মধ্যে অত্র অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারবেন প্রথমে এমন ধারণা ছিল না মানুষের। প্রতিষ্ঠানেটিতে তিনি দিনরাত মাতৃস্নেহের মতো লালন পালন করার ফলে বর্তমানে এমন প্রশংসা ভাসছেন তিনি।চেষ্টা ও সঠিক কর্মদক্ষতা থাকলে মানুষ যে কর্মের মাধ্যমে এতোটা অসাধ্যকে সাধন করতে পারেন তা এই মানবিক কর্মকর্তার কাজ দেখলে বোঝা যায়।
তিনি দালাল সিন্ডিকেট ভাঙতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ, অফিস স্টাফদের সাথে সদ্ব্যবহার, সেবা গ্রহীতাদের নিরাপত্তার জন্য গার্ড, অবাঞ্ছিত লোকের প্রবেশ নিষেধ সহ তার একাধিক কর্মকাণ্ড রীতিমতো নজরে আসার মতো। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় অত্র কার্যালয়টিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন দেখে সেবা গ্রহীতাদের মনে তিনি রীতিমতো স্থান করে নিয়েছেন । তাছাড়া বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের নির্দেশনা ও খুলনা বিভাগের পরিচালকের সার্বাক্ষনিক নজরদারির ফলে কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা মনিটরিং এর ব্যবস্থা, হট লাইন নাম্বার চালু করা, নারী ও পুরুষদের আলাদা করে বসার ব্যবস্থা, কাউন্টার সিস্টেম, সিটিজেন চার্টার ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি লাইসেন্স এর ভোগান্তির বিষয়ে জনগণের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন স্টাফকে দিয়ে ডেস্ক এর মাধ্যমে বিনামূল্যে অনলাইনে ই-সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি এমন প্রশংসা পেয়েছেন বলেও ধারণা অনেকের। এ রহস্য উন্মোচন করতে গোপনে তার সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে দেখা যায়, যেকোনো সেবা গ্রহীতাদের ডেকে ডেকে তিনি সঠিক পরামর্শ দিয়ে দ্রুততার সাথে সমস্যার সমাধান করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। ছালাম বিনিময়ে চেয়ারে বসতে দিয়ে নিজেই চা খাওয়াচ্ছেন।
কখনো কখনো সমস্যার সমাধান বিলম্ব হলে কথা শুনে তিনি নিজেই গিয়ে সমাধান করছেন। অত্র কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে যে সমস্ত কর্মকর্তা এখানে এসেছেন তাদের থেকেও বর্তমানে সহকারী পরিচালক এডি স্যার একটু বেশি ব্যতিক্রমী। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যার তার কাজকে খুব ভালোবাসেন যতক্ষণ না পর্যন্ত স্যারের কাজ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি অফিস ত্যাগে করেন না এমনকি রাত দশটা পর্যন্ত আমি স্যারকে কাজ করতে দেখেছি। কোন অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন না করতে নিষেধ করেন। স্যারের মতো একজন ভালো মানুষ আমাদের অফিসের দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা সত্যিই নিজেদের গর্ববোধ করি। একাধিক সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে সেখানে উপস্থিত আব্দুল কাইয়ুম নামের এক সেবাগ্রহীতা মানবিক এই বিআরটিএ কর্মকর্তা সম্পর্কে তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন এভাবে, স্যারের কাছে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে আমি যে কোন কাজে আসছি, উনি কখনো ফেরায় দেয়নি। অফিসে যত লোকের ভেতর আইছি, উনি আগে আমার কথা শুনছেন।
আমি যতবার উনাকে ফোন করছি ততবার রিসিভ করছে, বলছে হ্যাঁ আপনি বলেন কি সমস্যা? উনি আমার সমস্যাগুলো সমাধান করে দিয়েছেন। এডি স্যার খুবই ভালো লোক। আমি স্যারকে আজীবন মনে রাখবো। আমি তার দীর্ঘায়ু এবং আগামী কর্মস্থল সুন্দর হোক, ভবিষ্যতে আরো অনেক বড় মাপের কর্মকর্তা হোক, মানুষের খেদমত করুক এই কামনা করি। সার্বিক বিষয় নিয়ে ঝিনাইদহ বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) তানভীর আহমেদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দোকানে বা দালালের কাছে গিয়ে ফিটনেস, এপয়েন্টমেন্ট এর দিন শেষ বিআরটিএ বাংলাদেশ এই স্লোগান এবং চেয়ারম্যান মহাদ্বয়ের দিক নির্দেশনা ও খুলনা বিভাগীয় পরিচালক স্যারের নজরদারিতে আমি বিআরটিএ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা ছিল সেগুলো মুছে দিতে কাজ করছি। সার্কেল অফিস গুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য, বিভিন্ন অনিয়মের মতো বিষয়গুলো আসলেই অস্বীকার করার মতো নয়। কেউ কেউ এই দূর্ণীতিতে জড়ায় তবে আমার অফিসের যদি কেউ জড়িত থাকে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি থাকলাম।
তিনি আরো বলেন,আমি অল্প কয়েক দিন হলো এই অফিসে যোগদান করলাম আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি এই অফিসের বিআরটিএ সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন ঘটাতে। কথায় নয়, কাজ দিয়ে এ পরিবর্তন ঘটাতে হবে। যদি সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় তবে নিরলসভাবে কাজ করলে অবশ্যই সফলতা পাওয়া সম্ভব। বিআরটিএ কার্যালয়ের ভেতরে সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং বাইরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সহ দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য ব্যক্তিগত ও সরকারিভাবে নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন বলেও জানান।
পরিশেষে সেবা নিতে আসা গ্রহীতরা দীর্ঘদিন পর একজন মানবিক ও সৎ কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের সকল সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।