
বেরোবি প্রতিনিধি,মাসরিকুল হাসান সোহেল:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর( বেরোবিতে)
সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিকে সামনে রেখে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এবং ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার এর আয়োজনে ইয়ুথ লিডারশীপ ট্রেনিং প্রাপ্ত ১২৩৫ ব্যাচ এর প্রত্যয়ী টিমের উদ্যোগে একদল তরুণ-তরুণী সনাতনী শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর কিছু সংখ্যক নেত্যত্ববৃন্দের সাথে সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের গ্যালারি রুমে “সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সভা” অনুষ্ঠিত হয় ।
২৯-৩১ আগস্ট, ২০২৪ ইং তারিখে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ইউকেএইড এর সহযোগিতায় রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদে ট্রেনিং প্রাপ্ত ১২৩৫তম ব্যাচের প্রত্যয়ী টিম যে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা হলো সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সম্পর্কে তরুণ-তরুণীসহ সমাজের সকলকে সচেতন করা । তারই অংশ হিসেবে প্রত্যয়ী টিম এর উদ্যোগে হিন্দু ধর্মালম্বীদের এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন।
যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর ক্যাম্পাস এবং রংপুর এর সামাজিক এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ব্যাহত হয় এমন কর্মকান্ডকে প্রতিহত করতে তার কি করতে পারে? তথা পূজা উদযাপন, ধর্মীয় বা যেকোন প্রোগ্রামে কোন প্রকার সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন কিছু হওয়ার কোন সম্ভবনা আছে কিনা? বা যদি থেকে থাকে তাহলে তারা কিভাবে প্রতিহত করতে পারে উক্ত বিষয়ে একটি সমষ্টিগত আলোচনা করা হয়েছে।
উক্ত আলোচনা সভায় একজন সনাতনী শিক্ষার্থী বলেন, “আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ । তাই আমাদের মাঝে যে ধর্মীয় মূল্যবোধ আছে তা আগামী প্রজন্মকে শেখানো । এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, যারা দুষ্কৃতিকারী তারা সকল ধর্মের উপর আঘাত হানে । তাই দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার কথা তুলে ধরেছেন।
উক্ত আলোচনা সভায় সনাতনী শিক্ষার্থী শয়ন কুমার সাহা বলেন, “যারা ধর্মকে ব্যবহার করে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি করে তাদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় আনা । সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে একে অপরের র্মের প্রতি শ্রদ্ধা করা।
উক্ত আলোচনা সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী খোকন ইসলাম বলেন, “আমরা কাউকে অলি আউলিয়া ভেবে একাত্ববাদ পোষণ করবো না। কারণ যেকোন দাঙ্গা সৃষ্টি হয় জ্ঞানের স্বল্পতার কারনে । তাই আমাদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করা, আর কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়া ।”
উক্ত আলোচনা সভার মাধ্যমে সকলে মিলে একটি ঐক্য বা টিম গঠন করার প্রস্তাব ও এসেছে যেখানে সকল ধর্মের ছাত্ররা নেতৃত্ব দিবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিহত করতে সঙ্গবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।