মুক্তিযুদ্ধাদের কাছেও মূর্তিমান আতঙ্ক চুনারুঘাট উপজেলার ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ কমান্ডার – dainikprothombarta    
শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি। হাজারীবাগে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী শিপলু গ্রেফতার। রাজশাহী ৫ দুর্গাপুর পুঠিয়া ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা দুর্গাপুর থানার বখতিয়ার পুর    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে গাজীপুরে বিএনপির মতবিনিময় সভা কালিয়াকৈরে কিস্তির টাকা দিতে না পেরে রিক্সাচালকের আত্মহত্যা। বাংলাদেশ নারী ও শিশু উন্নয়ন সোসাইটির ব্যতিক্রমী ক্রীড়া উৎসব ধুনটে জামায়াত মহিলা বিভাগের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে কালী মন্দিরে মতবিনিময় সভা: দল-মত নির্বিশেষে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রত্যয় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিলসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন সরদহ স্টেশন পার হয়ে ট্রেনের বগি রেখে ইঞ্জিল চলে যায় ধুনটে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত নওগার মান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা।

মুক্তিযুদ্ধাদের কাছেও মূর্তিমান আতঙ্ক চুনারুঘাট উপজেলার ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ কমান্ডার

  • Update Time : শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১২৩ Time View

এম ফজলুর রহমান খালেদ, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট পৌরসভার হাতুন্ডা নিবাসী
আব্দুস সামাদ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থেকে এবং চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের এর সাথে তার বেশ সখ্য ছিল।এই সুবাদে সব ধরনের অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন এই ভূয়া মুক্তি যোদ্ধা আব্দুছ ছামাদ , বিগত পনেরো বছরের বেশিরভাগ সময়ই তার অপকর্ম ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বিশেষ প্রভাবশালী নেতার তদবিরে চুনারুঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নির্বাচিত হন আব্দুস সামাদ। এরপর থেকেই শুরু হয় তাহার অর্থের বিনিময়ে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর কার্যক্রম।এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালিন ভারতে অবস্থিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের রেফারেন্সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কাগজপত্রের অনুকরণে কাল্পনিক কোড নম্বর বসিয়ে চুনারুঘাট বসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে বিভিন্ন লোকের স্বাক্ষর জাল করে এবং বিভিন্ন ভুয়া সনদ তৈরি করে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতেন।

তখনকার সময় মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিতে ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন এই আব্দুস সামাদ। এসব অপকর্মে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন আব্দুল মান্নান নামে আরেক জন মুক্তিযোদ্ধা।সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কালে তিনি মুক্তিযুদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়েন যার নথি হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে রক্ষিত আছে।

২০১৪ সালের একদলীয় নির্বাচনে চুনারুঘাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোটের দায়িত্ব নেন এই ভূয়া মুক্তি যোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সামাদ। পুরো ব্যালট বই তিনি বাড়িতে নিয়ে যান, সেখান থেকেই নৌকা মার্কায় সীল দিয়ে নিয়ে এসে বাক্সে ভরেন।তার হাতে তৈরি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা থেকেও ভাগ নিতেন তিনি। তার তদ্বিরে পাওয়া মুক্তিযোদ্ধারাই ভাতা তোলার সময় তার হাতে কাগজপত্র দিয়ে দিতেন। এসময় ভাতা উঠিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো রেখে বাকীটা ফেরত দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। তুইতোকারি করে সবার সাথেই কথা বলতেন এই আব্দুস সামাদ। তার ভয়ে অন্য মুক্তিযোদ্ধারাও তটস্থ থাকতেন।

বয়স্ক ও বিধবাদের ভাতা করিয়ে দিতে তাদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করে নিতেন এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ। কমান্ডার হওয়ার কারণে বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তারাও তাকে ভয় পেতেন। অযোগ্য লোককে ভাতার কার্ড দিলেও সাহস করে তারা প্রতিবাদ করতে পারতেন না।কমান্ডার সামাদের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও মসজিদের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাড়ি সংলগ্ন বিলপাড় জামে মসজিদের নামে প্রকল্প নিয়ে সেই টাকা দিয়ে তিনি নিজের বাড়ির গেইট ও রাস্তা পাকা করেছেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবনের নিচতলার মার্কেটের মেয়াদ শেষ হলে কয়েক লক্ষ টাকা রুম বানিজ্য করেন কথিত কমান্ডার আব্দুছ সামাদ। নিজের পছন্দের লোক আওয়ামী লীগ নেতাকেও একটি রুম পাইয়ে দেন তিনি। বধ্যভূমির নামে পুরাতন খোয়াই নদী ভরাট করে দখলের মহোৎসব তার হাতেই শুরু হয়। নদীর ঠিক মাঝখানে নতুন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তৈরিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন এই ভূয়া মুক্তি যোদ্ধা আব্দুস সামাদ।এতোদিন স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে এবং স্বৈরাচার রেজিমের পক্ষের লোক হওয়ায় আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মুখ খুলে নি।

জানা যায়,কিছুদিন আগে চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাইরুন আক্তার পরিষদের একটি সভায় তার বক্তব্য শেষে জয় বাংলা না বলার কারণে তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন আব্দুস ছামাদ।সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন সদয় বিদায়ী চুনারুঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হাসান সহ গণ্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ।বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এই পান্ডা ছামাদ নতুন ব্রীজের সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলায় অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা আব্দুছ ছামাদ গজারি লাটি হাতে আন্দোলনের ছাত্র সমন্বয়ক ইমাদ উদ্দিনকে তাড়া করছেন।

এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুছ ছামাদ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরির কারখানা বানিয়ে সরকারের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।নাম প্রকাশে একজন শহীদ মুক্তি যোদ্ধার মেয়ের সাথে আলাপ কালে ও তার অর্থ কেলেংকারীর সত্যতা পাওয়া যায়,তিনি বলেন এই তথা কথিত ভূয়া মুক্তি যোদ্ধা কমান্ডার আব্দুছ ছামাদের দ্বারা আমি ও নির্যাতিত। টাকা ছাড়া সে কিছুই বুঝে না। আমি জীবিত অবস্থায় এই প্রতরকের করুন পরিনতি দেখে যেতে চাই।

আমাদের প্রতিনিধিকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুছ ছামাদ কমান্ডারের সকল কুকর্মের সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করেন চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ লিপু,নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে চুনারুঘাট উপজেলার সকল মুক্তিকামী মানুষের চাওয়া পাওয়া হলো এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদের ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

© All rights reserved © Doinik Prothom Barta
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102