
গত রবিবার (২৬ মে) রাত ১০ টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার (২৭ মে) বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলমান ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে শরণখোলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে রবিবার রাতে উপজেলা সদর রায়েন্দা ফেরিঘাট ও ঘাটের সংযোগ সড়ক সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে গেছে।
ক্ষতি হয়েছে রায়েন্দা রিভার ভিউ পার্ক এলাকার ৩৫/১ পোল্ডারের প্রায় দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধের। সেখানকার বাঁধের ব্লক সরে গিয়ে বড় বড় ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও মূল বাঁধে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
তাছাড়া সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা আশার আলো মসজিদ সংলগ্ন রিংবাঁধ সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া গাছ পড়ে উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন। ঝড়ে বাড়ি ও রাস্তার পাশের হাজার হাজার গাছ পড়ে আটকে আছে ছোট বড় অনেক সড়ক।
এছাড়া পানির চাপে বহু মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। উপজেলার সাউথখালী, রায়েন্দা,খোন্তাকাটা ও ধানসাগর ইউনিয়নে একই চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার কদমতলা গ্রামের আ. মজিদ খাঁন ও নাঈম খাঁনের ঘরের উপর গাছে পড়ে ঘরের একাংশ ভেঙ্গে গেছে।
একইভাবে রায়েন্দা বাজারের সোনালি মসজিদ রোডের পারভিন আক্তারের ঘরটি গাছ পড়ে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে। তাছাড়া রায়েন্দা ফেরিঘাটে রাখা একই এলাকার হাড়ি পাতিল ব্যবসায়ী আনোয়ার ফকিরের ৬ হাজার ইট ভেসে গেছে। উপজেলায় কম বেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত বলছেন স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে সুন্দরবন থেকে দুটি মৃত হরিণ ভেসে আসতে দেখেছেন উত্তর কদমতলা গ্রামের কয়েকজন যুবক। তখন তারা একটি হরিণ বাঁধের উপর টেনে তুললেও পরে বন বিভাগের ভয়ে আবার নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এতে ধারণা করা হচ্ছে পানির চাপে বনের হরিণসহ অনেক প্রাণী ভেসে গেছে।