
নিউজ ডেস্ক:
জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতার বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এনসিপির এই রাজনৈতিক জোটের অংশ হিসেবে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে এনসিপির নির্বাচনী জোটে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অবস্থান তুলে ধরে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মাহফুজ আলম।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, নাগরিক কমিটি ও এনসিপি মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতৃত্ব থেকে গড়ে উঠেছিল। এসব সংগঠনে তার জুলাইয়ের সহযোদ্ধারা যুক্ত থাকায় গত দেড় বছর ধরে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ, নির্দেশনা এবং নীতিগত সহযোগিতা দিয়ে এসেছেন।
নিজের রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে মাহফুজ আলম বলেন, তিনি নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদবিরোধী সাংস্কৃতিক সংগ্রাম, সামাজিক ফ্যাসিবাদের মোকাবিলা, রিকনসিলিয়েশন এবং দায়বদ্ধ মানবিক সমাজ গঠনের কথা বরাবরই বলে এসেছেন। এসব বিষয় এনসিপি ও নাগরিক কমিটির নেতারাও বিভিন্ন সময়ে উচ্চারণ করলেও বাস্তবে তা কতটা ধারণ করা হয়েছে—সে প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, এনসিপিকে একটি বড় ‘জুলাই আম্ব্রেলা’ হিসেবে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তবে নানা বাস্তব কারণে তা সম্ভব হয়নি।
জামায়াত–এনসিপি জোটের সঙ্গে নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাখ্যায় মাহফুজ আলম লেখেন, তার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। তবে তিনি এই এনসিপির অংশ হচ্ছেন না। ঢাকার একটি আসনে জামায়াত–এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন—এ কথা অস্বীকার করেননি তিনি। তবে তার দীর্ঘদিনের আদর্শিক অবস্থান ধরে রাখাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘শীতল যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এই সময়ে কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজের নীতি ও বক্তব্যে অটল থাকাই সবচেয়ে যৌক্তিক পথ। বিকল্প তরুণ ও জুলাই-ভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মাহফুজ আলম জানান, ভবিষ্যতেও তিনি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে তার চিন্তা ও অবস্থানের সঙ্গে যারা যুক্ত হতে চান, তাদের স্বাগত জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দলের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে এবং এসব দল একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবে।
এর আগে সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত নেতৃত্বাধীন আট দলের নির্বাচনী জোটে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি যুক্ত হচ্ছে।