
নিউজ ডেস্ক:
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) কেন্দ্র করে তাদের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ কমাতে সতর্কভাবেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি থেকে দেখা যাচ্ছে, দুই দেশই জনসমক্ষে বিবাদ কমিয়ে সংলাপ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে, যদিও বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি এখনো অর্জিত হয়নি।
ইসলামাবাদের প্রধান দাবি হলো, আফগান ভূমি যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য ব্যবহার না হয়। এ বিষয়ে পেছনের দরজার কূটনৈতিক আলোচনা কিছুটা ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উভয় পক্ষ আলোচনা পরিবেশ উন্নয়নে বাকবিতণ্ডা কমিয়ে সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে।
মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে জনসমক্ষে বাক্যবিনিময় কমাতে এবং সহযোগিতার মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করছেন। তালেবান প্রশাসন ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে ফতোয়া জারি করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবেলার জন্য পদক্ষেপ নিতে সম্মতি দিয়েছে।
আফগান ধর্মীয় নেতা সম্প্রতি একটি ফতোয়া জারি করেছেন যাতে দেশের বাইরে থেকে হামলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপকে আস্থা গড়ার দিক থেকে ইতিবাচক বলে দেখছে।
ফতোয়া জারির পর আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আফগান ভূমি অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে না। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এটিকে উত্তেজনা কমানোর ও আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ মনে করছে।
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার হাক্কানির বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া, সিরাজউদ্দিন হাক্কানি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দেশের বিশিষ্ট আলেমদের জারি করা পৃথক এক ঘোষণাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যেখানে উভয় পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে মতবিরোধ মেটানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আগেই আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আলেমদের ভূমিকা প্রশংসা করে বলেছেন, উত্তেজনার সময় তারা সমাজকে সুবিবেচনার পথে নিয়ে আসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তবে একাধিক দফায় আলোচনার পরও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি। তালেবান এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের আলোচনাগুলো অনেক সময় অমীমাংসিতই থেকে যায়।
পাকিস্তান বারবার বলছে যে সম্পর্ক উন্নয়ন টিটিপির বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে কাবুল পুনরায় জোর দিচ্ছে যে তারা তাদের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেয় না।
পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, তারা আশ্বাস নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ চান, বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায়। ইসলামাবাদ মনে করে যে সীমিত হলেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতি বদলে দিতে পারে।
দার জানিয়েছেন, যদি তালেবান সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এবং দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে পাকিস্তান সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন করবেন।
এই নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ থেকে বোঝা যায়, ইসলামাবাদ শুধু কথায় নয়, বাস্তব পরিবর্তনের চেয়েও আগ্রহী। আপাতত উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান যাচাই করছে বলে মনে হচ্ছে।