
নিউজ ডেস্ক:
পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডন-এ প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয় কার্টুনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত ওই কার্টুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি বিশাল বাঘের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বাঘটির গায়ে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে—“Bangladesh”।
কার্টুনটির শিল্পী রোহাইত ভাগবন্ত। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীকী এই চিত্রে জাতীয় পশু বাঘের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, আত্মবিশ্বাস এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্টুনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এটিকে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
এ ঘটনার রেশ ধরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও তীব্র বক্তব্য সামনে এসেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ–এন (পিএমএল–এন)-এর যুব শাখার এক নেতা ভারতকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন। কামরান সাঈদ উসমানি নামের ওই নেতা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত থাকবে।
তার দাবি, ঢাকার বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিলে ইসলামাবাদ নীরব থাকবে না। উসমানির ভাষায়, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসনের ওপর আঘাত এলে পাকিস্তানের জনগণ, সশস্ত্র বাহিনী এবং আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তার জবাব দিতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, মুসলিম তরুণ সমাজ এখন ভারতের আঞ্চলিক পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছে। তার অভিযোগ, ভারত তথাকথিত ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে, যা পাকিস্তান কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি যৌথ জোট এবং একে অপরের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তাবও দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যদি ভবিষ্যতে কোনো সামরিক সমঝোতা বা জোট গড়ে ওঠে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ডন-এর কার্টুন এবং পাকিস্তানি রাজনীতিকদের সাম্প্রতিক বক্তব্য মিলিয়ে গোটা ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনার আভাস দিচ্ছে।