
নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে ইউরেনিয়ামের সম্ভাব্য মজুদ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ বালু ও শিলার অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায় স্বাধীনতার পরপরই পরিচালিত একাধিক ভূতাত্ত্বিক জরিপে। এমনকি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সংরক্ষিত কিছু নথিতেও এ অঞ্চলে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—এত বছর পেরিয়ে গেলেও কেন এই খনিজ উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পায়নি? সংশ্লিষ্ট মহলে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে আরেকটি আলোচনা—এর পেছনে কি ভারতের আপত্তিই প্রধান বাধা?
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নয়াদিল্লির অন্যতম বড় উদ্বেগ হলো বাংলাদেশ কখনোই যেন পূর্ণাঙ্গ আণবিক সক্ষমতার দিকে অগ্রসর না হয়। চীন ও পাকিস্তানের পর সীমান্তবর্তী আরেকটি রাষ্ট্র আণবিক সক্ষমতা অর্জন করুক—এমন পরিস্থিতি ভারত কৌশলগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না।
ইউরেনিয়াম যেহেতু একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত পারমাণবিক খনিজ, তাই সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলে এর খনন কার্যক্রম ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে দেশটির আশঙ্কা। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে ভারত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ যদি নিজস্ব ইউরেনিয়াম উত্তোলন ও ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশটি আংশিক হলেও স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে।
আরও একটি দিক হলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। চীন বা রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশের প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশ যদি ইউরেনিয়াম প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোয়, তাহলে তা ভারতের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক হিসাবকে আরও জটিল করে তুলতে পারে—এমনটাই মত অনেক বিশ্লেষকের।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম সম্ভাবনা কেবল একটি খনিজ সম্পদের প্রশ্ন নয়। এটি জড়িয়ে আছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি ও শক্তির ভারসাম্যের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের সঙ্গে। তাই এই ইস্যুতে নীরবতা ও স্থবিরতার পেছনে কৌশলগত হিসাব-নিকাশই যে বড় ভূমিকা রাখছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।