
উপজেলা প্রতিনিধি:
আ. লীগ নেতা-কর্মীদের বিএনপিতে যোগদান, সমালোচনার ঝড়
কুড়িগ্রামে আলোচিত শিবির কর্মী রফিকুল হত্যা মামলার আসামিসহ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদানকে ঘিরে তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চিহ্নিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আনুষ্ঠানিক ভাবে দলে ভেড়ানোর কারনে ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমুলের নেতা-কর্মীরা। গত শনিবার কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন এসব নেতাকর্মী।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজ এ ঘটনাকে ‘ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন’ এবং ‘শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বিএনপিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কাউন্সিলর আনিসুর রহমান, আল হারুনুজ্জামান হারুন, মোস্তফা কামাল, জমশেদ আলী টুংকু, আবদুল মালেক এবং সাবেক সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর সহিরন বেগম ও মুক্তা বেগমসহ মোট নয়জন।
এদের মধ্যে একজন কুড়িগ্রামের আলোচিত লগি-বৈঠার আন্দোলনে নিহত ছাত্রশিবিরের কর্মী রফিকুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি। এছাড়া তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত জুলাই আন্দোলন বিরোধী।
অপর এক কাউন্সিলর কুড়িগ্রামে জুলাই আন্দোলনে নিহত আসিক হত্যা মামলার অন্যতম আসামির পিতা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক নৈতিকতা পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপির সিদ্ধান্তকে অনেকে মনে করছে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদপুষ্ট নেতাদের দলে নিয়ে বিএনপি শত শত শহীদদের আত্মত্যাগ ও হাজারো আহত জুলাই যোদ্ধার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া বলেন, বিএনপি ফ্যাসিস্টদের দিলে ভিড়িয়ে তাদের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ করলো। ফ্যাসিস্ট কাউন্সিলরদের দলে ভিড়িয়ে বিএনপি আবার তাদের দিয়েই নির্বাচন করবে। এটা চব্বিশের আন্দোলনে শহীদদের সাথে চরম বেইমানি। আমরা এর নিন্দা জানাই।
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ বলেন , বিষয়টি জাতি শুনে হতাশ। বিএনপি হলেই যে আওয়ামী লীগের পুনরাবৃত্তি হবে তার প্রমাণ এখনই বোঝা যায়। পুরাতন ফ্যাসিস্টদেরকে নতুন ফ্যাসিস্টরা জায়গা করে দিচ্ছে। তারা হাদির মতাদর্শের পরিপন্থি কাজ করে জাতিকে একটা অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। এই ফ্যাসিস্টদের কারণে দেশ হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।