
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে প্রায় ১৭টি পানবরজ ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জয়নগর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুর গ্রামের সোনারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ১৭টি পানবরজে একরাতের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানেননা উপজেলা কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
রোববার দিনগত রাতের শেষভাগে সংঘটিত এই ঘটনায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
সোমবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১৭টি পানবরজের বিভিন্ন অংশ ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। কোথাও বাঁশের খুঁটি উপড়ে ফেলা হয়েছে। কোথাও বেড়া আবার কোথাও ছনের ছাউনি নষ্ট করা হয়েছে। কয়েকজন পানচাষী ভাঙা অংশ মেরামতের চেষ্টা করছেন। কিছু বরজে পানগাছ মাটিতে লুটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, ব্রহ্মপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম, জনাব আলী, ইসানুর, আসাদ, রতন, লালু, ওমর আলী, ওজদুল হক, বাচ্চু, মকুল আলী, মিস্টার, গোলাম মাস্টার, নজরুল, সাগর, আলহাজ মোস্তফা ও রবিউল।
পানচাষী জনাব আলী জানান, ফজরের নামাজ শেষে পানবরজে গিয়ে বেড়া ও ছাউনি ভাংচুর অবস্থায় দেখতে পাই। তার পানবরজ সহ আশেপাশের কয়েকজনের বরজেও ভাঙচুর করা হয়েছে।
মকুল আলী বলেন, পানবরজে আসার পথে রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পানপাতা পড়ে থাকতে দেখি। তখনই সন্দেহ হয়। ভেতরে এসে দেখি পানবরজের বেশি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা দাবি করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, একজনের পক্ষে এতগুলো বরজ ভাঙা সম্ভব নয়। অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সংঘটিত হয়ে এই কাজ করে থাকতে পারে।
কৃষকদের দাবি, প্রতি ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের একজন করে ব্লক সুপারভাইজার ও উপ-সহকারী ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা থাকলেও এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজ খবর নেননি।
এদিকে, প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে কৃষি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।