ভুয়া নোটারি তালাকে তৃতীয় বিয়ে পড়ালেন কাজী – dainikprothombarta    
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নবনির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য মতবিনিময় ও মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গাপুরে পান বরজে অগ্নিকাণ্ড   ভুয়া নোটারি তালাকে তৃতীয় বিয়ে পড়ালেন কাজী দোয়ারাবাজারে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মার্কাজ মসজিদের ইমামকে হেনস্তা মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরে সরিষার তেল, জয়দেবপুরে ৬ দোকানকে জরিমানা সখিপুরে ট্রান্সফরমার চুরির সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত, আটক ১ রাজশাহী যুবদলে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগ বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত ২ আসামী গ্রেফতার গাজীপুরে ভাষা শহীদদের প্রতি এমপি রনি ও জেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা

ভুয়া নোটারি তালাকে তৃতীয় বিয়ে পড়ালেন কাজী

মোঃ নুরুল আমিন পলাশ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৬ Time View

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:

 

খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামের মো. আবু হানিফ ও শারমিন আক্তার পলির সংসার শুরু হয়েছিল ভালোবাসা ও স্বপ্ন নিয়ে। পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর পরিবারকে জানিয়ে বিয়ে—সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। তবে ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে হানিফের জীবন।

 

দুর্ঘটনার পর প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন হানিফ। অভিযোগ তাঁর, এই সময়ের মধ্যেই স্ত্রী শারমিন আক্তার পলি পরিবারের পরামর্শে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। সুস্থ হয়ে ফিরে স্ত্রীকে ফেরাতে একাধিকবার চেষ্টা করেন তিনি। বসানো হয় গ্রাম্য সালিসও। তবে কোনো উদ্যোগই কাজে আসেনি।

 

পরবর্তীতে স্ত্রীকে ফেরাতে আদালতের দ্বারস্থ হন হানিফ। এ সময় তিনি জানতে পারেন, কোনো তালাক ছাড়াই কয়রা ইউনিয়নের কাজী মোহা. ইউনুচ আলীর মাধ্যমে পলির বিয়ে দেওয়া হয় পাশের শ্যামনগর উপজেলার জয়াখালী গ্রামে। এর আগে হানিফের বাড়িতে একটি কথিত নোটারি তালাকনামার ফটোকপি স্থানীয় লোকের মাধ্যমে পৌঁছায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, নোটারি তালাকনামার কাগজটি ভুয়া।

 

ভুক্তভোগী হানিফ বলেন, “আমাকে কোনো তালাক না দিয়েই ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ভুয়া নোটারি কাগজের মাধ্যমে আমার স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে কাজী মোহা. ইউনুচ আলী আমাকে কিছু টাকা নিয়ে চুপ থাকতে বলেন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে হুমকি দেয়। ভুয়া তালাকে বিয়ের বিষয় এলাকায় জানাজানি হলে বিয়ের এক মাস পর কয়রা ইউনিয়ন কাজী অফিস থেকে একটি তালাকের কপি তৈরি করে দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী।”

 

হানিফের অভিযোগ, শারমিন আক্তার পলির বাবা আনিছুর রহমান গাজী নিয়মিত তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

 

প্রাপ্ত অভিযোগ ও নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হানিফ ও শারমিন আক্তার পলির বিয়ে হয়। শারমিন আক্তির পলি ছিলেন হানিফের প্রথম স্ত্রী। পলি হানিফকে বিয়ে করার পূর্বেও একটি বিয়ে করেছিল। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে পলির তৃতীয় বিয়ে হয়। এ বিয়ের বৈধতা দেখাতে একটি ‘তালাক এফিডেভিট’ দাখিল করা হয়, যা যাচাইয়ে ভুয়া প্রমাণিত হয়। নথিতে ব্যবহৃত নোটারি ও আইনজীবীর নাম সম্পর্কে অনুসন্ধানে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি নিশ্চিত করেছে, ওই নামে কোনো নোটারি বা আইনজীবীর অস্তিত্ব খুলনা বারে নেই।

 

এ বিষয়ে কয়রা ইউনিয়নের কাজী মোহা. ইউনুচ আলী বলেন, “বিষয়টি ভুল হয়ে গেছে। মেয়ে ডিভোর্স নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করলে আমার কিছু করার নেই। আমি বিয়ে না পড়ালে অন্য কোনো কাজী বিয়ে পড়াত।”

 

কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লৎফর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে পরিষদে সালিশের আবেদন করেছিল হানিফের পরিবার। কিন্তু শারমিন বা তার পরিবারকে বারবার ডাকা হলেও তারা উপস্থিত না হওয়ায় হানিফের পক্ষে একটি সালিশনামা দেওয়া হয়।”

 

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

© All rights reserved © Doinik Prothom Barta
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102