
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের লোহাগাছিয়া এলাকায় ফকির খালেক শাহের আখড়া বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লালন স্মরণোৎসব ও লালন মেলা। তিন দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে লালনের দর্শন, মানবতাবাদ ও ভাবসংগীতকে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
মেলার প্রতিটি দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত খ্যাতনামা লালন শিল্পীরা লালনগীতি পরিবেশন করেন। লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবমুক্তি ও আত্মঅনুসন্ধানের দর্শনে মুগ্ধ হয়ে ওঠে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।
মেলা প্রাঙ্গণে ছিল খাবারের দোকান, কসমেটিকস, খেলনা ও বিভিন্ন পণ্যের অসংখ্য স্টল। এসব স্টল মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করে এবং মেলার প্রাণচাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে তোলে।
মেলার শেষ দিনে লালন শিল্পী সুমি তার হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশনায় মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন। তার কণ্ঠে পরিবেশিত লালনগীতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে, যা এই লালন মেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
আয়োজকদের মতে, লালনের দর্শন ও সংগীত নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। শান্তি, মানবতা ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই লালন স্মরণোৎসব ও মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
উল্লেখ্য, গাজীপুরে অনুষ্ঠিত এই লালন স্মরণোৎসব ও লালন মেলা বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লালন মেলা হিসেবে সুপরিচিত