বেরোবি প্রতিনিধি :
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবিতে) উপাচার্যের কতিপয় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগের সংবাদ সম্মেলন করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
রবিবার ( ২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০:৩০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেছেন ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা গভীর দুঃখ ও হতাশার সাথে আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা বলার জন্য আজকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। আপনারা সবাই জানেন যে আমাদের প্রাণের দাবি ছাত্র সংসদের নির্বাচন বানচাল হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড আমরা কিছুই পাইনি। আমাদের মাননীয় উপাচার্য স্যার আমাদের সব সময় শুধু আশা দিয়েছেন, কথার ফুলঝুড়ি ছিটিয়েছেন, কাজের কাজ কিছুই করেন নাই।
আমরা মাননীয় উপাচাষ স্যারের বিগত এক বছরের কর্মকান্ডে দারুণভাবে হতাশ এবং বিক্ষুব্ধ। আমরা বারবার স্যারের কাছে গিয়েছি, প্রতিশ্রুতি নিয়েছি এবং বরাবরই প্রতারিত হয়েছি। বাধ্য হয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান স্যারের নিকট প্রতিকার চেয়ে স্মারকলিপি প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমরা আশা করব, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলি মাঞ্জুরি কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনের কথা উপলব্ধি করবেন। আমরা যে স্মারকলিপি প্রদান করতে যাচ্ছি, সেটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনানো হচ্ছে। স্মারকলিপি পাঠ করছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছাত্রনেতা-
আমরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও বর্ষের শিক্ষার্থী,
অত্যন্ত দুঃখ ও লজ্জার সাথে আমাদের মাননীয় উপাচার্যের কয়েকটি অনিয়ম আপনার মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবগত করছি-
১। বিগত জুলাই আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু ছিল ক্যাম্পাসগুলিতে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তে ছাত্র সংসদ চালু করা। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্বভার গ্রহণ করেই প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দিয়েছেন বটে কিন্তু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ও প্রাণের দাবী ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করেন নাই। এই দাবীতে শিক্ষার্থীরা অব্যাহতভাবে আন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত আমরন অনশন কর্মসূচী পর্যন্ত পালন করেছে। কিন্তু উপাচার্যে একটি দলের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবীকে পাশ কাটিয়ে নানা কৌশলে শুধু সময় ক্ষেপণ করেছেন, যাতে করে জাতীয় নির্বাচনের সময় চলে আসে এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে না হয়। অবশেষে জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে বেরোবির ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা গত এক বছরের অধিক সময় ধরে আন্দোলনে করেও তাদের কাঙ্খিত নির্বাচন দেখতে না পাওয়ায় চরমভাবে বিক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে উপাচার্য স্পষ্টতই প্রতারণা করেছেন।
২। গত ১৩ জানুয়ারী কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে ২৬ টি কর্মকর্তা-কর্মচারী পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। পদগুলোর মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের ৭টি পদ যেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমরা শুনতে পেয়েছি, ইতোপূর্বেকার উপাচার্যদের আমলে অনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ৪র্থ গ্রেডে পদোন্নতি প্রাপ্ত ৮ জন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারসহ আওয়ামীলীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবংআওয়ামীপন্থী সংগঠন স্বাধীনতা পরিষদের সদস্য চিহ্নিত একটি অসৎ চক্রের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেরোবিতে যোগদানকালে এসব কর্মকর্তার অনেকেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী 'সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে' চাকুরির অভিজ্ঞতাও তাদের ছিল না। এ সম্পর্কিত দুদকের মামলা চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ নানা উপায়ে মামলা দীর্ঘায়িত করে নিজ নিজ চাকরিকাল সম্পন্ন করে চলছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের মুহূর্তে উপাচার্য তার পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়েছেন এবং অতীতের উপাচার্যগণের মতই সকল অনৈতিক পথে হাঁটছেন।
তাঁকে থামানো প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমরা জানতে পেরেছি যে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও নীতিমালা নাই। প্রতিটি পদে আবেদনের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ ও পরিবর্তন হয় সময়ে সময়ে, উপাচার্যগণ তাঁর পছন্দের প্রার্থীর জন্য যখন যার জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমন যোগ্যতা নির্ধারণ করেন এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেন।
ইউজিসি কর্তক ছাড়কৃত শুণ্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত পদের জন্য আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণপূর্বক সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদনের পরে ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয় বলে আমরা জানি। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য সিন্ডিকেট ও কমিশনকে পাশ কাটিয়ে একচেটিয়াভাবে তাড়াহুড়ো করে উক্ত নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। যা খুবই দুঃখজনক। আমরা অতি সত্বর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক যাথাযথ নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আয়োজনের দাবী জানাচ্ছি।
৩। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। গুচ্ছ, ঢাবি, রাবি, কৃষিগুচ্ছসহ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের অর্থ ব্যয় ও কটনের অনিয়ম হয়ে আসছে বলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু ব্যবহার করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও, শুধু গুচ্ছ পরীক্ষায় নাম-কা-ওয়াস্তে ক্ষুদ্র একটা অংশ জমা করা ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে কোন অর্থ জমা না করে সম্পূর্ণ অর্থ ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়ে থাকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- মোঃ আবির ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক:- জামিল চৌধুরী
বার্তা সম্পাদক:- আরিফুল ইসলাম
হেড অফিস: ৪৭,পুরানো পল্টন আরবান পল্টন ভিউ কমাশিয়াল কমপ্লেক্স (৫ম তলা)
নিউজ মেইল: dainikprothombarta@gmail.com
যোগাযোগ: ০১৬৪৩-০৩১৩৭২/০১৮৬৮-৮৪৫৫৯৬
দৈনিক প্রথম বার্তা কর্তৃপক্ষ
Design And Develop By Coder Boss