
নিউজ ডেস্ক:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসংলগ্ন এলাকায় জেলেদের জালে দুইটি বিরল প্রজাতির পাখি মাছ (সেইল ফিশ) ধরা পড়েছে, যার মোট ওজন প্রায় ১৬০ কেজির কাছাকাছি।
রোববার সকালে মাছ দুটি মহিপুরের মৎস্য মার্কেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হলে তা দেখতে ভিড় জমায় স্থানীয় জনতা ও মাছ ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, মাছ দুটির বিশাল পাখনার কারণে এখানকার মানুষ এদের ‘পাখি মাছ’ বা ‘গোলপাতা’ নামে চিনে থাকে। এই মাছগুলো সাধারণত গভীর সমুদ্রে জাল ফেলার সময় ধরা পড়ে।
মোস্তাফিজ নামের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, উপকূলীয় এলাকায় পাখি মাছের চাহিদা বেশি না থাকায় দাম তেমন ভালো পাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত মাছ দুটি খোলা বাজারে মোট ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
মাছ দুটি প্রতি কেজি ১৫৬ টাকায় ক্রয় করেন টিপু নামে এক ব্যবসায়ী, যিনি বলেন, পাখি মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না এবং এটি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন নামিদামি রেস্টুরেন্টে এর চাহিদা ভালো।
মাছ ধরার সময় সঙ্গে থাকা জেলে কামাল মাঝি জানান, জাল টানার সময় অন্য মাছের সঙ্গে আকস্মিকভাবে এই বিরল দুইটি পাখি মাছ ধরা পড়ে। তবে কম চাহিদার কারণে তুলনামূলক কম দামে মাছ বিক্রি করতে হয়েছে।
ইকোফিশ-বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, সেইল ফিশ মহাসাগরের অন্যতম দ্রুতগামী মাছ, ঘণ্টায় প্রায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে এটি সাঁতার কাটতে পারে। বড় পাখনার কারণে এ মাছকে ‘সেইল ফিশ’ বলা হয় এবং শিকারের সময় রং পরিবর্তন করার ক্ষমতাও রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, পাখি মাছ সাধারণত গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।