
নিউজ ডেস্ক:
পাবলিক স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান আইন সংশোধন করে প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর এই অধ্যাদেশ কার্যকর হয়েছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে এখন থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে, যা আগে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। শুধু ধূমপান নয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রেও শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই আইনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, পৃথক বিড়ি উৎপাদনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন এবং ই-সিগারেট ও ভ্যাপসহ নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা।
নতুন অধ্যাদেশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংযোজন আনা হয়েছে, সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা বিস্তৃত
সংশোধিত আইনে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞার আওতায় ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য যুক্ত করা হয়েছে। সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন কোনো পণ্যকেও তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। পাশাপাশি ‘নিকোটিন’, ‘নিকোটিন দ্রব্য’ ও ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা
সব ধরনের পাবলিক স্থান ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান ভঙ্গ করলে এখন থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হবে।
বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
প্রিন্ট, টেলিভিশন, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়কেন্দ্রে প্যাকেট প্রদর্শন, তামাক কোম্পানির নামে সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির অর্থায়নও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বিক্রি নিষিদ্ধ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করা যাবে না।
ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্যে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
ই-সিগারেট, ভ্যাপসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বিড়ি উৎপাদনে পরিবর্তন
কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সঙ্গে ১৯৭৫ সালের পৃথক বিড়ি উৎপাদন নিষিদ্ধ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
ক্ষতিকর মিশ্রণ নিষিদ্ধ
তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো আসক্তিমূলক বা ক্ষতিকর উপাদান মেশানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং
তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও ছবি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো পণ্য বাজারজাত করা যাবে না।
শাস্তি ও আইন প্রয়োগ জোরদার
নতুন আইনে জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, পণ্য জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।