
নিউজ ডেস্ক:
আর্থিক সংকটে পড়া পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত নতুন প্রতিষ্ঠান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি–এর জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম। এই স্কিমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের পদ্ধতি, সময়সীমা ও শর্ত বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংক বিলুপ্ত করে নতুন কাঠামোয় কার্যক্রম শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।
আমানতের পরিমাণ অনুযায়ী অর্থ ফেরত
রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে ধাপে ধাপে।
যেসব গ্রাহকের আমানত ২ লাখ টাকা পর্যন্ত, তাদের টাকা পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে। আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় এই অর্থ যেকোনো সময় নতুন ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা যাবে।
২ লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে কিস্তিতে টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। প্রথম ২ লাখ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তোলনযোগ্য। এরপর প্রতি অতিরিক্ত ১ লাখ টাকা করে প্রতি তিন মাস অন্তর উত্তোলন করা যাবে। অবশিষ্ট অংশ কার্যকর তারিখের ২৪ মাস পর তোলা যাবে।
এফডিআর ও স্থায়ী আমানতে নতুন শর্ত
যেসব গ্রাহকের ৩ মাস বা তার বেশি মেয়াদের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে, তারা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তা ভাঙাতে পারবেন না। স্কিম অনুযায়ী এসব এফডিআর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে।
৩ মাস মেয়াদি এফডিআর: ধারাবাহিকভাবে তিনবার নবায়ন
১ থেকে ২ বছর মেয়াদি আমানত: ৩ বছর মেয়াদি হিসেবে গণ্য
৪ বছরের বেশি মেয়াদি আমানত: মেয়াদ শেষে সম্পূর্ণ উত্তোলনযোগ্য
গুরুতর রোগীদের জন্য শিথিলতা
ক্যানসার, কিডনি ডায়ালাইসিসসহ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তারা নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়েও অর্থ উত্তোলনের অনুমতি পাবেন।
প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের অংশ শেয়ারে রূপান্তর
রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী আমানতের একটি বড় অংশ—প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা—নতুন ব্যাংকের খ-শ্রেণির শেয়ারে রূপান্তর করা হবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও ট্রাস্টের ক্ষেত্রেও আমানতের একটি অংশ শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব শেয়ার থেকে ভবিষ্যতে লভ্যাংশ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত এক বছরে একাধিকবার তারল্য সহায়তা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার স্থায়ী উন্নতি হয়নি। দুর্বল সুশাসন ও উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
এই বাস্তবতায় ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর আওতায় পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, আর পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক মনোনীত সাত সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ বর্তমানে ব্যাংকটির দায়িত্বে রয়েছে।