নির্বাচনী সমঝোতায় জামায়াতের শেষ মুহূর্তের বিস্ময় – dainikprothombarta    
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাভার আশুলিয়া সেনা মার্কেট থেকে সরকারি আটা ও চাল জব্দ মান্দায় আত্রাই নদীর পাড়ে মোবাইল কোর্ট; দুই চালককে জরিমানা। দোয়ারাবাজারে সুনামগঞ্জের ডিসির বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজশাহীতে মঞ্চ প্রস্তুত রাজশাহী-৫ পুঠিয়া দুর্গাপুর বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা বিভিন্ন ইউনিয়নে  নওগাঁর মান্দায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত। ঘাটাইলে বর্ণিল আয়োজনে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের সমন গায়েব করে গ্রেপ্তারের অভিযোগ মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে পরিচিত মাগুরা মহম্মদপুর পলাশবাড়ী ইউনিয়ন এর ঔতিহ্য ও কৃতি সন্তান, এ আর সাইফুল ইসলাম । সংস্কারের নামে বছরের পর বছর খোঁড়া রাস্তা ধুনটে ঠিকাদার লাপাত্তা, মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নির্বাচনী সমঝোতায় জামায়াতের শেষ মুহূর্তের বিস্ময়

  • Update Time : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ Time View

নিউজ ডেস্ক:

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আসন বন্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর জামায়াত ইসলামী নতুন করে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি করেছে। আন্দোলনরত আট দলের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি আহমদের নেতৃত্বে থাকা এলডিপি ও তরুণদের সংগঠন এনসিপিকে যুক্ত করে ১০ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা এসেছে। পাশাপাশি, জামায়াত অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ও রাওয়া ক্লাবের চেয়ারম্যান আবদুল হককে ঢাকা-২ আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় তা আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই নির্বাচনী জোটের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে এলডিপি ও অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যদিও এনসিপির নেতারা সময় সংকটের কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। জামায়াত আমির বলেন, “এটি আমাদের একটি শক্তিশালী সমঝোতা, যা প্রচলিত জোটের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়। দেশের ৩০০ আসনের অধিকাংশেই আমরা আলোচনার মাধ্যমে আসন বণ্টন নির্ধারণ করেছি। বাকিটা দ্রুত সমাধান হবে।”

সূত্র জানিয়েছে, জুলাই বিপ্লবের কিছুদিনের মধ্যেই দেশের ইসলামি দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াত নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যা বেশিরভাগ দল সমর্থন করে। পরবর্তীতে আট দলের ঐক্য ঘোষণা হয়, যেখানে জামায়াত ছাড়াও রয়েছে ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ইত্যাদি।

এই দলগুলো বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক দাবি নিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে সভা, বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পরিচালনা করে ঐক্য শক্তিশালী করেছে। আসন বণ্টনের জন্য বিভিন্ন স্তরে তৃণমূল থেকে চাপ থাকায় গত ৯ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থী মনোনয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় এনসিপি ও এলডিপির অন্তর্ভুক্তির কারণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটছে। জামায়াতের সমঝোতার বিস্তার সম্পর্কে উৎসাহ ও আশাবাদ বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, “জাতির এক গুরুত্বপূর্ণ সময় এটি। আমরা একটি শোষণহীন, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সাথে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে এলডিপি ও এনসিপি, যাদের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে। তারা শীঘ্রই নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে।”

করোনেল অলি আহমদ, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, ১৯৮০ সালে সেনা থেকে অবসর নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং পরে এলডিপি গড়ে তোলেন। তার দলের মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং তিনি এখন এলডিপির প্রার্থী।

জামায়াতের এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য সম্পর্কে আমির বলেন, “আমরা একটি শক্তিশালী নির্বাচনী সমঝোতা গড়ে তুলেছি। যদিও আরো দল আগ্রহ প্রকাশ করেছে, কিন্তু বর্তমানে তাদের অন্তর্ভুক্তি কঠিন। তবে আমরা ভবিষ্যতে তাদের সাথে কাজ করার আশ্বাস দিচ্ছি।”

তিনি আরো বলেন, “নির্বাচনের জন্য সময় খুবই কম, তাই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা করব। নির্বাচন কমিশন ও সরকার যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, সেই আশা রাখি।”

জামায়াতের আমির আশা প্রকাশ করেন, “সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। ভোটাধিকার রক্ষায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

আসন বণ্টনের ব্যাপারে তিনি জানান, “এখানে একক দলই আসন বণ্টন করবে না। সবাই যার যার ন্যায্যতা অনুযায়ী আসন পাবে। তবে নতুন দলকে এবার অন্তর্ভুক্ত করা কঠিন হবে।”

বর্তমানে ১০ দলীয় সমঝোতায় জামায়াত অন্তত ১৯০ আসনে, অন্য দলগুলো মোট ১১০ আসনে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনসিপি ৩০ আসন ও ইসলামী আন্দোলন ৩০ এর বেশি আসন পেতে পারে। এলডিপি পাচ্ছে প্রায় ছয়টি আসন।

সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, ইসলামী আন্দোলনের সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

© All rights reserved © Doinik Prothom Barta
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102