বাগেরহাট শরনখোলা প্রতিনিধি:
শরনখোলা কাঁপছে শীতে
বাগেরহাটের শরণখোলা। স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না হতদরিদ্র ও শ্রমজীবিরা। নিম্ন আয়ের এসব পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক সংকট। উপজেলার সর্বত্র দেখা দিয়েছে শীতজনিত রোগব্যধি। এছাড়া বর্তমানে উপজেলাজুড়ে চলছে বোরো ও আলুর চাষাবাদ। কিন্তু শীতের কারণে কাজে নামতে পারছেন না চাষিরা।
সেমাবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বলেশ্বর নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে কোনো জেলের নৌকা নেই। মাঝেমধ্যে দু-একটি নৌকা নিয়ে নদীতে নমালেও ঠান্ডায় বেশিক্ষণ টিকতে পারছেন না জেলেরা। একারণে বাজারেও স্থানীয়ভাবে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে।
বলেশ্বর নদের জেলে হাসান শিকদার (৩০), শফিকুল ইসলাম (৪০), ইলিয়াস হাওলাদার (৩৫) ও জুয়েল হাওলাদার (৩০) বলেন, ঠান্ডায় নদীতে যাওয়া যায় না। আমরা অনেক বিপদে আছি। আমরা তিন দিন নদীতে যাই না। শীতে নদীতে মাছও কম। মাছ ধরতে না পারলে আমাগো সংসার চলে না। আমরা অনেক কষ্ট আছি।
উপজেলা সদর রায়েন্দা মাছের বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আ.জব্বার,আবুল বাশার, সোহাগ হাওলাদারসহ অনেকেই বলেন, আমাদের বাজারের বেশিরভাগ মাছ বলেশ্বর নদী থেকে আসে। সকাল-সন্ধ্যা দুই বেলা এই নদীর ইলিশ, পোয়া, তপসে, পাঙ্গাস, আইড়সহ বিভিন্ন তাজা মাছে ক্রেতাদের চাহিদা পুরণ হয়। কিন্তু শীতে জেলেরা নদীতে নামতে পারছে না। একারণে কয়েকদিন ধরে বাজারে এসব তরতাজা মাছ খুবই কম।
রায়েন্দা বাজারের ঘাট শ্রমিক আ.লতিফ, ফুল মিয়া ও সলেমান বলেন,সকালে আমরা কাজে নামতে পারি না। শীতে হাত-পা অবশ হয়ে যায়। কুয়াশায় ঢাকা ও খুলনা ট্রান্সপোর্ট থেকে মালের গাড়িও আসতে দেরি হয়। যে কারণে কাজ কমে গেছে। আর কাজ না থাকলে আয়ও কমে যায়। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। কাজ করতে না পারলে সংসার চলে না।অনেক কষ্টে দিন কাটছে আমাদের।
ভ্যান ও ইজিবাইক চালক বাবুল মিয়া,লোকমান হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, শীতে যাত্রী খুবই কম। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে দুই-একজন যাত্রী পাই। সারাদিনে দুই-আড়াইশো টাকা পাই,তা দিয়ে সংসার চলে না।
উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের ছগির চৌকিদার, জাহিদ হাওলাদার,নাছির হাওলাদার বলেন,আমরা বোরো ধানের চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করে বসে আছি। কিন্তু শীতে জমিতে নামতে পারছি না।শীত না কমলে রোপণ করা সম্ভব হবে না।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগে(আউটডোর) প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। যার অর্ধেক-ই ঠান্ডা জনিত সর্দি, কাশি ও এলার্জির রোগী। স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতেও বহু রোগী আসছে।এর মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।এসব রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, তীব্র শীতে চারা তোলা বা রোপণ করা হলে ভাইরাসে আক্রমণ করতে পারে। যে কারণে প্রচন্ড ঠন্ডাায় জমি রোপণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বোরো চাষিদের।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- মোঃ আবির ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক:- জামিল চৌধুরী
বার্তা সম্পাদক:- আরিফুল ইসলাম
হেড অফিস: ৪৭,পুরানো পল্টন আরবান পল্টন ভিউ কমাশিয়াল কমপ্লেক্স (৫ম তলা)
নিউজ মেইল: dainikprothombarta@gmail.com
যোগাযোগ: ০১৬৪৩-০৩১৩৭২/০১৮৬৮-৮৪৫৫৯৬
দৈনিক প্রথম বার্তা কর্তৃপক্ষ
Design And Develop By Coder Boss