
নিউজ ডেস্ক:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী সংকটে ভুগছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন, নৌকার ভোট লাঙলে স্থানান্তরিত হতে পারে। তবে বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। মনোনয়ন নিতে আগ্রহী নেতাকর্মীর সংখ্যা আশানুরূপ নয়।
জি এম কাদের
গত বুধবার মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হওয়ার পর পাঁচ দিনে মাত্র ৬৭ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। আগ্রহ কম থাকায় মনোনয়ন ফরম বিক্রির সময়সীমা আরও তিন দিন বাড়ানো হয়েছে। যদিও দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেছেন, ফরম বিক্রির সংখ্যা দুই শতাধিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ বা ২৬ ডিসেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে এবং সর্বোচ্চ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।
এদিকে জাপার আরেক অংশ—ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট—আজ মঙ্গলবার তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই জোটে রয়েছে ছয়টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আওয়ামী লীগের ১৪-দলীয় জোটের শরিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপি। জোটের অন্য শরিক দলগুলো হচ্ছে বিএনএম, গণফ্রন্ট, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, মুসলিম লীগ ও তৃণমূল বিএনপি।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিকে নিয়ে গঠিত বৃহত্তম সুন্নি জোটও আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
লাঙল নিয়ে অনীহা
গত এক দশকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার রাজনীতির কারণে জাতীয় পার্টি ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা সরকারে থেকেও বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। ২০১৮ এবং সর্বশেষ নির্বাচনেও একই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ছাত্র নেতৃত্বের বিরোধিতার মুখে জাতীয় পার্টিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। দলীয় কার্যালয়ে হামলা, নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। নেতৃত্ব সংকটের জেরে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতাকে নিয়ে আলাদা জাপা গঠন করেন।
জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশে থাকা অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাই এবার নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী নন। একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানিয়েছেন, আগের নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ভোট পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, এবার পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল এবং নৌকার ভোট লাঙলে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
টিকে থাকার লড়াইয়ে আরেক জাপা
অন্যদিকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বাধীন জাপা অংশটির নির্বাচনে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধরে রাখা। তাঁরা দুজনই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মন্ত্রী ছিলেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের জোটের বেশিরভাগ শরিক দলই অতীতে আওয়ামী লীগের মিত্র ছিল।
জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রুহুল আমিন হাওলাদার জানিয়েছেন, ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও তা নির্ভর করবে জোটের চূড়ান্ত সমঝোতার ওপর। সুন্নিপন্থি তিনটি দলের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা চলছে, যার সিদ্ধান্ত আজই জানানো হতে পারে।