
বিশেষ প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় হাতিয়া ভবেশ গ্ৰামের কে.এম গোলাম সরওয়ারের ছেলে নুর – এ – সাকিব বাংলাদেশের সবোর্চ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এর ভর্তি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয় ।এক সময় যে শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় নানা তিরস্কার ও উপহাসের শিকার হয়েছিল, সেই শিক্ষার্থীই পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত হয়ে প্রমাণ করেছে—পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফল ভালো করাই জীবনের সব নয় ।
আমাদের সমাজে পরীক্ষার ফলাফলকে অনেক সময় ব্যক্তির যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা কী বলে?
উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী নুর-এ-সাকিব এমনই এক দৃষ্টান্ত । চিলমারীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৭৯ পাওয়া সাকিব পারিবারিক ও সামাজিক নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। এসএসসি পরীক্ষায়ও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় সমালোচনার শিকার হতে হয় তাকে। কিন্তু দমে যায়নি সে। বড় ভাইয়ের সহায়তায় উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হওয়ার পর সেখানকার শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় নতুন করে পথচলা শুরু করে সাকিব। কলেজ পর্যায়ে কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এইচএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে সে।
পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৮৩১ তম স্থান অর্জন করে নুর-এ-সাকিব। এছাড়াও সে আরো দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল করে।
নুর-এ-সাকিবের এই গল্প প্রমাণ করে, পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা জীবনের শেষ কথা নয়। গুরুজনদের উপযুক্ত দিকনির্দেশনা,নিজের অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো শিক্ষার্থী নিজেকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সমাজের উচিত শুধু রেজাল্টের ভিত্তিতে কারও মূল্যায়ন না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো, অনুপ্রেরণা জোগানো…যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাতে পারে।