
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে ক্ষমতা একচেটিয়াভাবে কুক্ষিগত করার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন— ‘ঢাকা না বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘পেতে চাইলে মুক্তি, ছাড় ঢাবি ভক্তি’, ‘সিন্ডিকেট নিপাত যাক, বাংলাদেশ মুক্তি পাক’, ‘ঢাবিজম নিপাত যাক’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’ ইত্যাদি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের প্রভাবশালীদের বসিয়ে দিচ্ছে, যা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও অঞ্চলের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন,
“ঢাকা কেন্দ্রিক যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, তা সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য চরম বৈষম্যের। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করে শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছে। এটি আমাদের বিপ্লবের আদর্শের পরিপন্থী। আমরা অবিলম্বে এই ক্ষমতার সুষ্ঠু বণ্টন চাই। অন্যথায়, আমরা রাজপথে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবো।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা বলেন,
“৫ আগস্টের পর আমরা বৈষম্যহীন, অংশীদারিত্বমূলক একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা চেয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটছে, তা পুরোপুরি উল্টো। আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষা উপদেষ্টা নিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা পর ঢাবি সিন্ডিকেট সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নিজেদের একজনকে নিয়োগ দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে চরম বৈষম্যমূলক। শুধু রাবি নয়, উত্তরবঙ্গসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও কোনো শিক্ষা উপদেষ্টা, পিএসসি-ইউজিসি সদস্য কিংবা সংস্কার কমিশনে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমে ঢাবি সিন্ডিকেট পুরো দেশের উপর কর্তৃত্ব বজায় রাখছে। আমরা এই সিন্ডিকেটের অবসান চাই।”
বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা আগামীকাল (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় ঢাকা-রাজশাহী রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, ঢাবি কেন্দ্রিক একচেটিয়া নিয়োগ বন্ধ করে দেশের সব অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সমানভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, এই বিক্ষোভ মিছিলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।