
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ মোঃ গোলাম রব্বানী।
ভাজা মুড়ি হলো বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য। বছরজুড়ে কমবেশি এই মুড়ির কদর থাকলেও রমজান মাসে এর চাহিদা বেড়ে যেতো কয়েকগুণ। বর্তমানে মানুষের আধুনিক জীবনযাত্রায় শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। সেই ছোঁয়ায় আর সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলেছে মুড়ি তৈরির ধরণ। যান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নতির ফলে হাতে ভাজা মুড়ি যেন ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সব সময় হাতের ভাজা তৈরি মুড়ি তেমন চোখে পড়ছে না। মেশিনের তৈরি মুড়ি সব জায়গা দখল করে নিয়েছে।
এক সময় গ্রামের গৃহবধূরা হাতে তৈরি মুড়ি ভাজতেন। হাতে ভাজা মুড়ির ছিল আলাদা স্বাদ। আর বাংলার সংস্কৃতিতে রমজান মাসে হাতের তৈরি মুড়ি ছাড়া ইফতার যেন কল্পনা করা যেতো না। তাছাড়া বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে নানা খাবারের সঙ্গে মুড়ির কদর ছিল বেশ।
গৃহবধূরা চাল সংগ্রহ করে পানিতে ভিজিয়ে লবণ দিয়ে রোদে শুকিয়ে নানা প্রক্রিয়া করে মুড়ির চাল তৈরি করতেন। এরপর সেই চাল দিয়ে তৈরি করা হতো হাতে ভাজা মুড়ি। বর্তমানে সব জায়গায় কমে গেছে হাতে ভাজা মুড়ি। এ ক্ষেত্রে হাতে ভাজা মুড়ির স্থান দখল করে নিয়েছে কারখানার মেশিনের তৈরি মুড়ি।
একটা সময় ছিল গ্রামাঞ্চলের গৃহবধূরা মৌসুমী ধান কাটার পর মুড়ি ভাজার জন্য আলাদা করে ধান রাখতেন। সেই ধান রোদে শুকানোর পর ভাঙিয়ে চাল তৈরি করে নিজ হাতে মুড়ি ভাজতেন। অনেকে আবার ভালো চাল কিনে মুড়ি ভাজতেন। প্রতিটি ঘরে ছিল হাতে ভাজা মুড়ি তৈরির উৎসব। গ্রামের ছোট-বড় যে কোনো পরিবারে সারা বছরই হাতে ভাজা মুড়ি পাওয়া যেত। সেই সঙ্গে অনেক পরিবারের লোকজন হাতে তৈরি মুড়ি ভেজে বিক্রি করে বেশ টাকা উপার্জন করতেন। আর রমজান মাসে ছিল বাড়তি কদর।
বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামাঞ্চলে হাতে তৈরি ভাজা মুড়ি যেন তেমন চোখে পড়ছে না। দেশের বড় বড় নামি-দামি কোম্পানিগুলো মুড়ি তৈরি করে অতিসহজে শহর থেকে শুরু করে গ্রামের দোকানগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছে। মেশিনের তৈরী মুড়ি ৬০ থেকে ৭০টাকা।